দুর্গাপূজা ২০২৬: তারিখ, সময়সূচি ও সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট | ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী

মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় বাঙালির মনে শুরু হয়ে যায় শারদোৎসবের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্যি, কাশফুল, শিউলির গন্ধ এবং দেবীর আরাধনায় মুখর হয়ে ওঠে বাংলার পরিবেশ। প্রতি বছরই দুর্গাপূজার তিথি ও পূজার নির্ঘণ্ট জানার জন্য ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ থাকে।

২০২৬ সালে দুর্গাপূজা কবে? মহালয়া, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমী কোন কোন তারিখে? বোধন, নবপত্রিকা পূজা এবং সন্ধিপূজার সময় কখন?

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার নির্ঘণ্টের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন পঞ্জিকা এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি ও পূজার সময়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠী ও সপ্তমীর তিথি এবং সন্ধিপূজার নির্দিষ্ট সময় নিয়ে দুই পঞ্জিকার গণনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার রাত ১টা ৪২ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৭ অক্টোবর রাত ৩টা ৪৬ মিনিটে। অন্যদিকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ১৫ অক্টোবর রাত ৩টা ২৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৭ অক্টোবর ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় সন্ধিপূজার সময়ে। প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের সন্ধিপূজা হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ৭টা ২৬ মিনিট থেকে ৮টা ১৪ মিনিটের মধ্যে। অন্যদিকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী সন্ধিপূজার সময় ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ২৮ মিনিট থেকে ১১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত

অর্থাৎ, দুই পঞ্জিকাতেই ২০২৬ সালের সন্ধিপূজা ১৯ অক্টোবর পড়লেও নির্দিষ্ট সময়ের ক্ষেত্রে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। তাই দুর্গাপূজার আচার-অনুষ্ঠান পালনের সময় আপনার বাড়ি বা পুজো কমিটিতে যে পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়, সেই পঞ্জিকার সময়সূচিই অনুসরণ করা উচিত।

এই প্রতিবেদনে আমরা ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার সম্পূর্ণ তারিখ, তিথি, পূজার নির্ঘণ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি তুলে ধরব। পাশাপাশি প্রাচীন পঞ্জিকা ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী কোথায় কোথায় পার্থক্য রয়েছে, সেটিও সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট—মহালয়া থেকে শুরু করে ষষ্ঠী, সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী পর্যন্ত।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালের মহালয়া কবে?

মহালয়া থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় দেবীপক্ষের সূচনা এবং বাঙালির মনে শুরু হয় দুর্গাপূজার কাউন্টডাউন।

২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর,  শনিবার । বাংলার ২২ শে আশ্বিন ।

এই দিন ভোরে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়।
মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পাঠ শোনা, গঙ্গায় তর্পণ এবং মায়ের আগমনের অপেক্ষা—বাঙালির দুর্গাপূজার আবেগের সঙ্গে এগুলি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

মহালয়ার দিনে শিল্পী যখন দেবীর চোখ আঁকেন অর্থাৎ চোখু দান সম্পন্ন করেন সেই মুহূর্ত থেকে প্রতিমাটিকে দেবীর জীবন্ত সত্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহালয়ার পিতৃ তর্পণ প্রথাটি অত্যন্ত প্রাচীন — এটি আমাদের পরিচিত দুর্গাপূজারও পূর্ববর্তী এবং পূর্বপুরুষ পূজার বৈদিক ঐতিহ্যের সাথে এর যোগসূত্র রয়েছে। চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে, পিতৃপক্ষ হলো আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ, যা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এর শেষ দিনে, অর্থাৎ মহালয়া অমাবস্যায়, বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তর্পণটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এই পক্ষকালে পিতৃলোকের (পূর্বপুরুষদের জগৎ) দ্বার উন্মুক্ত থাকে এবং এই সময়ে নিবেদিত নৈবেদ্য বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মৃতদের আত্মার কাছে আরও সরাসরি পৌঁছায়।

প্রাচীন পঞ্জিকা এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী এবং সন্ধিপুজোর সময়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি উভয় পদ্ধতি অনুসারে নির্ঘন্ট আপনাদের জানাচ্ছি:

সর্ব প্রথম  প্রাচীন পঞ্জিকা মতে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট জানাচ্ছি –

প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ১টা ৪২ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি ২৮ আশ্বিন। ষষ্ঠী তিথি শেষ হবে ১৭ অক্টোবর রাত ৩টা ৪৬ মিনিটে। পূর্বাহ্ন সকাল ৯টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত।

ষষ্ঠীর দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনার মূল পর্ব। এই দিনেই রয়েছে বোধন, আমন্ত্রণ এবং অধিবাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার।

বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলায় বেলগাছের নিচে দেবীর বোধনের মাধ্যমে মাকে পূজার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জাগ্রত ও আহ্বান করা হয়।

সূর্যোদয়ের পর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংকল্প এবং শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাপুজোর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পুজো সম্পন্ন করা প্রশস্ত, কারণ তারপর অর্থাৎ সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে কালবেলা শুরু হয়ে যাচ্ছে । সন্ধ্যায় হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ, বেলবরণ ও অধিবাস।

এই বছর দুর্গা সপ্তমী পড়েছে দু’দিন। প্রাচীন পঞ্জিকা মতে, সপ্তমী তিথি শুরু হবে ১৭ অক্টোবর রাত ৩টা ৪৬ মিনিটে। বাংলা মতে ২৯ আশ্বিন, শনিবার। এদিন সপ্তমী তিথি অহোরাত্র থাকবে। সকাল ৯টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত পূর্বাহ্ন। কালবেলা অনুরোধে দিবা ৭টা ৪ মিনিটের পর দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পুজো করা প্রশস্ত।

নবপত্রিকাকে অনেক সময় সাধারণভাবে ‘কলাবউ’ বলা হলেও, শাস্ত্রীয়ভাবে এটি নয়টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে দেবীর একটি বিশেষ রূপের প্রতীক।

সপ্তমীর সকালে শুভ মুহূর্তে নবপত্রিকার স্নান করিয়ে, তাঁকে সাজিয়ে গণেশের পাশে স্থাপন করা হয়। এরপর শুরু হয় সপ্তমীর মূল পূজা ও অন্যান্য আচার।

সপ্তমী তিথি শেষ হবে ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৫টা ৫৩ মিনিটে। ওই সময়ের মধ্যে সপ্তমী বিহিত পুজো সম্পন্ন করা প্রশস্ত।

রাত ১০টা ৫৯ মিনিট থেকে ১১টা ৪৭ মিনিটের মধ্যে অর্ধরাত্রি বিহিত পুজোর সময়।

অষ্টমী তিথি শুরু হবে ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৫টা ৫৩ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ কার্তিক।

সকাল ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী আদিকল্পারম্ভ, মহাষ্টমী বিহিত পুজো, বীরাষ্টমী ব্রত, মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস ও অঞ্জলি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

মহাষ্টমীর দিন ভক্তরা ভোরবেলা স্নান করে শুদ্ধ মনে দেবীর পূজা ও অষ্টমীর অঞ্জলি দেন। অনেকেই এই দিনে উপবাস বা নিরামিষ আহার পালন করেন।

তবে মহাষ্টমীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় আচারগুলির মধ্যে একটি হল সন্ধিপূজা

অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট—অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিটের বিশেষ সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। এই সময়েই দেবীর সন্ধিপূজা সম্পন্ন করা হয়।

পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণেই মা দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন এবং তাঁর চামুণ্ডা রূপের প্রকাশ ঘটে। তাই সন্ধিপূজার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

সন্ধিপূজার সময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ১০৮টি পদ্মফুল দিয়ে দেবীর পূজা করার প্রচলন রয়েছে অনেক দুর্গাপূজা মণ্ডপে।

প্রাচীন পঞ্জিকা অনুযায়ী, সন্ধিপুজো শুরু হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে। সন্ধিপুজো শেষ করতে হবে সকাল ৮টা ১৪ মিনিটের মধ্যে। বলিদানের সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। অর্থাৎ, প্রাচীন পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ সালের সন্ধিপুজো হবে মহাষ্টমীর সকালেই।

নবমী তিথি শুরু হবে ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডারে ২ কার্তিক। পূর্বাহ্ন সকাল ৯টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত। প্রদত্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৮টা ৩১ মিনিট থেকে ৯টা ৩১ মিনিটের মধ্যে মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পুজো করা প্রশস্ত। এদিন দেবীর নবরাত্রি ব্রত সমাপনও হবে। 

অনেক মণ্ডপে এই দিন কুমারী পূজা, হোম বা যজ্ঞ এবং বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শাস্ত্র ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নবমীর পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ভক্তরা এই দিনে মায়ের কাছে পরিবার, সমাজ এবং সকলের মঙ্গল ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

অনেক জায়গায় নবমীর পূজার পর নবমী হোম অনুষ্ঠিত হয়। অগ্নিদেবকে সাক্ষী রেখে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হয়।

তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিভিন্ন পুজো কমিটির নিজস্ব রীতি অনুযায়ী নবমীর আচার-অনুষ্ঠানে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।

আর নবমীর পরেই আসে সেই দিন, যেদিন মায়ের বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে—বিজয়া দশমী

দশমী তিথি শুরু হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২১ অক্টোবর, বুধবার সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩ কার্তিক।

কালবেলা অনুরোধে সকাল ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পুজো ও বিসর্জন করা প্রশস্ত। কুলাচার অনুযায়ী বিসর্জনের পর অপরাজিতা পুজো হবে।

এই দিনেই সিঁদুর খেলা, দেবীকে বরণ এবং সবশেষে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় শারদীয়া দুর্গোৎসব। প্রতিমা বিসর্জনের আগে ভক্তরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন—

“মা, আবার এসো আগামী বছর।”

এইভাবেই কয়েকদিনের আনন্দ, পূজা, অঞ্জলি, ধূপ-ধুনো আর ঢাকের বাদ্যের পর সমাপ্তি ঘটে শারদীয়া দুর্গোৎসবের।

এবার জানাবো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির হিসাবে কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। এই পঞ্জিকা অনুসারে ষষ্ঠী দু’দিন ধরে থাকবে।

ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ২৬ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডারে ২৮ আশ্বিন। ষষ্ঠী তিথি থাকবে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার, অর্থাৎ ২৯ আশ্বিন পর্যন্ত। ষষ্ঠী তিথি অহোরাত্র থাকবে। সকাল ৯টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত পূর্বাহ্ন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠী বিহিত পুজো সম্পন্ন করা প্রশস্ত। সন্ধ্যায় হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী তিথি শেষ হবে ১৭ অক্টোবর, শনিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে।

ষষ্ঠী শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১৭ অক্টোবর, শনিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে সপ্তমী তিথি শুরু হবে। সপ্তমী তিথি শেষ হবে ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ কার্তিক। ভোর ৫টা ২৯ মিনিটের মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পুজো সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। রাত ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে কুলাচার অনুযায়ী দেবীর অর্ধরাত্রি বিহিত পুজো করা হবে।

অষ্টমী তিথি শুরু হবে ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২ কার্তিক। সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ২৭ মিনিটের মধ্যে অষ্টমী বিহিত পুজো, মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী কল্পে পুজো সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

তাহলে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সন্ধিপুজো কখন?

এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, সন্ধিপুজো শুরু হবে ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে। সন্ধিপুজো শেষ হবে সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে। বলিদানের সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে। অর্থাৎ, এই পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ সালের সন্ধিপুজো হবে মহাষ্টমীর সকালেই, ১০টা ২৮ মিনিট থেকে ১১টা ১৬ মিনিটের মধ্যে।

নবমী তিথি শুরু হবে ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫১ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩ কার্তিক। 

সকাল ৮টা ৭ মিনিট থেকে ৯টা ২৭ মিনিটের মধ্যে মহানবমী বিহিত পুজো ও মহানবমী কল্পের পুজো সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

দশমী তিথি শুরু হবে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২১ অক্টোবর, বুধবার রাত ২টা ১২ মিনিটে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৪ কার্তিক। 

সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পুজো ও বিসর্জন করার কথা বলা হয়েছে। কুলাচার অনুযায়ী বিজয়া দশমীর কৃত্য এবং বিসর্জনের পর শ্রীশ্রী অপরাজিতা পুজো হবে।

এই ছিল ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার সম্পূর্ণ তারিখ, তিথি এবং গুরুত্বপূর্ণ পূজার সময়সূচি

মহালয়া থেকে শুরু করে ষষ্ঠী, সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী—দুর্গাপূজার প্রতিটি দিনই বাঙালির কাছে ভক্তি, আনন্দ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

তবে দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট নিয়ে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার। প্রাচীন পঞ্জিকা এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনায় কিছু পার্থক্য থাকায় তিথি ও পূজার সময়েও পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই বাড়িতে বা পুজো মণ্ডপে যে পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়, পূজার আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই পঞ্জিকার সময়কেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দুর্গাপূজার নির্ঘণ্টের পাশাপাশি মায়ের আগমন ও গমনের বাহন নিয়েও প্রতিবছর ভক্তদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল থাকে।

২০২৬ সালে মা দুর্গা কীসে করে মর্ত্যে আসবেন? আর কীসে করে কৈলাসে ফিরে যাবেন?

মায়ের আগমন ও গমনের বাহনকে ঘিরে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা, প্রচলিত বিশ্বাস এবং বিভিন্ন পঞ্জিকায় উল্লেখিত ফলাফল নিয়ে রয়েছে নানা তথ্য।

২০২৬ সালে মায়ের আগমন ও গমনের বাহন কী এবং এর সঙ্গে কী শুভ বা অশুভ ফলের কথা বলা হয়? এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

Hindu Shastra Gyan-এ নিয়মিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় উৎসব, পূজা-পার্বণ, তিথি, ব্রত, শাস্ত্র এবং সনাতন ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

তাই এই প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে Share করুন এবং হিন্দু ধর্ম ও শাস্ত্র সম্পর্কিত আরও লেখা পেতে HinduShastraGyan.com-এর সঙ্গে যুক্ত থাকুন।

সবশেষে, সকলের জন্য রইল মায়ের চরণে প্রার্থনা—
মা দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক।

জয় মা দুর্গা। 🙏
শুভ শারদীয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top